শুক্রবার, ৮ই মে, ২০২৬ | ডেস্ক নিউজ
কুড়িগ্রাম দেশের উত্তরাঞ্চলের একটি কৃষিসমৃদ্ধ জেলা। এ জেলায় মৌসুমভেদে ধান, গম, ভুট্টা, তিসি, মরিচ, পেঁয়াজ, চিনাবাদাম, সরিষা ও পটলসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদিত হয়। ব্রহ্মপুত্র-তিস্তা-ধরলা অববাহিকায় অবস্থিত কুড়িগ্রামের চর ও চলাঞ্চলে এবার বোরো ধান, মরিচ, বাদাম, পেঁয়াজ ও পটলের বাম্পার ফলন হয়েছিল। কিন্তু বৈশাখের বৈরী আবহাওয়া কুড়িগ্রামসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কৃষকদের জন্য বড় দুর্ভোগ বয়ে এনেছে।
শিলাবৃষ্টি ও অতিভারী বৃষ্টিতে জেলায় ব্যাপক ফসলহানির ঘটনা ঘটেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রায় ৮ কোটি ১৪ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মরিচ ও পেঁয়াজ চাষিরা। বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়া মরিচ বাজারে তুলেও কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা। এমনকি উৎপাদন খরচ ওঠানো নিয়েও তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
অন্যদিকে, ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে অকাল বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষকদের নির্ধারিত সময়ের আগেই পেঁয়াজ তুলতে হয়েছে। আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা না থাকায় একদিকে পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে মণপ্রতি পেঁয়াজের দামও কমে গেছে।
সিলেট-সুনামগঞ্জের মতো কুড়িগ্রামের কিছু এলাকাতেও রয়েছে অঘোষিত হাওরাঞ্চল। উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ী ইউনিয়নের চকচকার বিল, সাতদরগাহ ব্রিজসংলগ্ন দোলাপাড় বিল, ফকির মোহাম্মদ এলাকা সংলগ্ন ওলাবিবির চর, ছয়ানি গ্রামের পাশের নিচু দোলা, নাগেশ্বরীর নুনখাওয়া ইউনিয়নের বিল, যাত্রাপুরের পোড়ার চর, কাতলামারীর চর ও পাঁচগাছি ইউনিয়নের গারুপাড়া বিল—এসব এলাকাও এখন অঘোষিত হাওরে পরিণত হয়েছে। এসব অঞ্চলের প্রধান ফসল বোরো ধান। কিন্তু অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় সেই ধান আজ পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।
হাজারো কৃষকের ঘামঝরা স্বপ্ন মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রকৃতির ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও, সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। খাল-বিল, নদী ও জলাশয় খনন করে সঠিক পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা গড়ে তুললে কৃষকদের এমন দুর্ভোগে পড়তে হতো না।
সিলেট-সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকদের দুর্দশা জাতীয়ভাবে আলোচনায় এলেও কুড়িগ্রামের কৃষকদের করুণ চিত্র খুব কমই সামনে আসে। কেন এই বৈষম্য? ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ সহায়তা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং বন্যাসহিষ্ণু ফসলের বীজ বিতরণের মতো কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
কৃষিনির্ভর জেলা কুড়িগ্রামের উন্নয়ন কৃষকের উন্নয়ন ছাড়া সম্ভব নয়। কৃষিকে রক্ষা করতে না পারলে এ অঞ্চলে দারিদ্র্য ও মঙ্গার ঝুঁকি আরও বাড়বে। তাই এখনই কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।
লেখক: রনি সরকার
সাবেক শিক্ষার্থী, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

