
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় মৌমাছির আকস্মিক আক্রমণে জামায়াতে ইসলামীর তিন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সোমবার (৪ মে) বিকেলে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বীরহিম গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়েছে।
আহতরা হলেন—বজরা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সামিউল ইসলাম (৩৫), ওলামা বিভাগের সভাপতি ফিরোজ হোসেন (৩৭) এবং কর্মী তোজাম্মেল মিয়া (৪৭)। তারা সবাই মধ্য বজরা গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন ওই তিনজন। পথে বীরহিম গ্রামের রব্বানি মিয়ার বাড়ির সামনে পৌঁছালে হঠাৎ করে মৌমাছির একটি ঝাঁক তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে তারা দ্রুত মোটরসাইকেল থামিয়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা আগুন জ্বালিয়ে মৌমাছি তাড়ানোর চেষ্টা করলেও ততক্ষণে তারা আহত হন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নাজমুল ইসলাম বলেন, “হঠাৎ করে মৌমাছির ঝাঁক এসে তাদের ওপর পড়ে। তারা দিশেহারা হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে।”
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের মধ্যে দুজনকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, যেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ফারহানা বিনতে ফারুক জানান, আহতদের মধ্যে তোজাম্মেল মিয়াকে প্রায় ৪০টির মতো ভিমরুলে কামড় দিয়েছে, যা তাকে গুরুতর অবস্থায় ফেলেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুরে পাঠানো হয়েছে। অপর আহত সামিউল ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফিরোজ হোসেন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মৌমাছি বা ভিমরুলের এমন আকস্মিক ঝাঁকবদ্ধ আক্রমণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং মুহূর্তেই বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :