মু. রাসেল মাহমুদ
মোবাইলের স্ক্রিনে আটকে থাকা শৈশব যেন হঠাৎই ফিরে এলো পানির বুকে! কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী কলা গাছের ভেলা নিয়ে খেলায় মেতেছে কুড়িগ্রামের খামার হলোখানার শিশু-কিশোররা।
বর্ষার পানিতে এলাকার খাল-বিল, জলাশয় ও নিম্নাঞ্চল ডুবে যেতেই শিশুদের মধ্যে শুরু হয়েছে পুরোনো সেই আনন্দ। কলাগাছের কাণ্ড দড়ি দিয়ে বেঁধে তৈরি করা হচ্ছে ভেলা। এরপর সেই ভেলায় চড়ে পানিতে ভেসে বেড়ানো, বন্ধুদের সঙ্গে দুষ্টুমি আর নানা কসরতে জমে উঠছে শৈশবের আনন্দ।
শিশুদের উচ্ছ্বাসে যেন মুহূর্তেই বদলে যাচ্ছে চারপাশের দৃশ্য। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে মোবাইল, গেম আর অনলাইন বিনোদনের বাইরে কলাগাছের ভেলায় তাদের এমন আনন্দ মনে করিয়ে দিচ্ছে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার চিরচেনা শৈশবকে।
স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় বর্ষাকালে কলাগাছের ভেলা ছিল গ্রামীণ শিশু-কিশোরদের অন্যতম প্রধান বিনোদন। খাল-বিল, নদী ও জলাশয়ে ভেলা নিয়ে খেলাধুলা ছিল প্রায় নিত্যদিনের দৃশ্য। সময়ের সঙ্গে আধুনিক বিনোদনের প্রসার ঘটায় সেই ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে গেছে।
তবে খামার হলোখানায় এখনো সেই ঐতিহ্যের ছোঁয়া ধরে রেখেছে নতুন প্রজন্ম। শিশুদের ভেলা খেলা দেখতে স্থানীয়দেরও ভিড় করতে দেখা গেছে। ভেলায় ভেসে বেড়ানো শিশুদের দেখে অনেক বয়স্ক মানুষ ফিরে যাচ্ছেন নিজেদের শৈশবের দিনগুলোতে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “ছোটবেলায় আমরাও কলাগাছের ভেলা বানিয়ে পানিতে খেলতাম। এখনকার ছেলেমেয়েরা মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত। তাদের এভাবে ভেলা খেলতে দেখে আমাদের পুরোনো দিনের কথা মনে পড়ে গেল।”
স্থানীয়দের মতে, কলাগাছের ভেলা শুধু একটি খেলা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামীণ বাংলার জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও শৈশবের অসংখ্য স্মৃতি। নতুন প্রজন্মের কাছে এই হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য তুলে ধরতে এমন আয়োজন আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
তবে পানিতে খেলাধুলার সময় শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। অভিভাবকদের নজরদারিতে এবং নিরাপদ জলাশয়ে এ ধরনের খেলাধুলার আয়োজন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কলা গাছের ভেলায় ভেসে চলা শিশুদের হাসি-আনন্দ যেন একটাই বার্তা দেয়—সময় বদলেছে, বিনোদনের ধরন বদলেছে; কিন্তু গ্রামবাংলার মাটিতে মিশে থাকা শৈশবের সেই নির্মল আনন্দ এখনো হারিয়ে যায়নি।
