Site icon হামার কুড়িগ্রাম

ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতি পুকুরে খনন ও শোভাবর্ধন কাজ চলছে

এনামুল হক সরকার, রাজারহাট

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার সংযোগস্থলে অবস্থিত প্রায় দুই শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতি পুকুরে চলছে খনন ও শোভাবর্ধনের কাজ। দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে পুকুরটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় এর স্বাভাবিক গভীরতা ও সৌন্দর্য অনেকটাই হারিয়ে গিয়েছিল।

সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর সার্বিক তত্ত্বাবধানে পুকুরটির সীমানা নির্ধারণ, তলদেশ গভীর করা, পাড় সম্প্রসারণ এবং নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন এ কার্যক্রম তদারকি করছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ১৬.৫ একর আয়তনের এই পুকুর থেকে ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে পানি অপসারণ করা হচ্ছে। তলদেশ দৃশ্যমান হওয়ার পর ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক্টরের মাধ্যমে অপসারণ করা হচ্ছে এবং পাড় প্রশস্ত করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে ঐতিহ্যবাহী রাম নবমীর স্নান ও মেলায় আগত বিপুল সংখ্যক মানুষের দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি হবে, যা পর্যটন সম্ভাবনাকেও উজ্জ্বল করবে।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, উনবিংশ শতাব্দীতে এ অঞ্চলে পানির তীব্র সংকট দূর করতে তৎকালীন জমিদার রাম নারায়ণ চক্রবর্তী পুকুরটি খনন করেন। জনশ্রুতি অনুযায়ী, দীর্ঘ খননের পরও পানির দেখা না মিললে তিনি স্বপ্নে দেবী গঙ্গার নির্দেশ পান। নির্দেশনা অনুযায়ী পূজা সম্পন্ন করার পর পুকুরে পানি উঠে আসে। তবে এ সময় তার দুই কন্যা—সিন্দুর ও মতি—পানিতে নিখোঁজ হয়ে যায়। তাদের নামেই পুকুরটির নামকরণ হয় ‘সিন্দুরমতি পুকুর’।

স্থানীয়রা আরও জানান, পূর্বে পুকুরপাড়ে ঘাট, ফ্রেশ রুম এবং দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থা নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে নতুন করে পাড় সম্প্রসারণ, বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির মাধ্যমে পুকুরটির হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান জানান, এই ঐতিহাসিক পুকুরটির খনন ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজ সম্পন্ন হলে এটি জেলার পর্যটন শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান হিসেবে আরও উন্নত সুবিধা পাবে।

জেলা প্রশাসনের তদারকিতে চলমান এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সিন্দুরমতি পুকুর ফিরে পাবে তার ঐতিহ্য ও নান্দনিক সৌন্দর্য—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

Exit mobile version