
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নে ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগে চালবোঝাই একটি অটোরিকশা আটক এবং পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় স্থানীয় যুবদল নেতা বকুল মিয়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৩ মে) বিকেলে তবকপুর ইউনিয়নের যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বকুল মিয়া তার সহযোগী মিলন মিয়া, চাঁদ মিয়া ও ফজলুর রহমান সাজুকে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে প্রভাবিত করে ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৃত উপকারভোগীদের বঞ্চিত করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের অনুসারীদের নামে চাল উত্তোলন করা হয় এবং পরে তা বিক্রির উদ্দেশ্যে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভিজিএফ কার্ড সংগ্রহ করে কিছু কার্ড স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছেও বিক্রি করা হয়েছে। ফলে তালিকাভুক্ত বহু দরিদ্র ও অসহায় পরিবার তাদের প্রাপ্য চাল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
রোববার (২৪ মে) স্থানীয়রা সন্দেহভাজন একটি অটোরিকশা আটক করেন। অটোরিকশাটিতে ১৬ বস্তা ভিজিএফ চাল বহন করা হচ্ছিল বলে জানা যায়। স্থানীয়দের দাবি, চালগুলো উলিপুর পৌরসভার মোহাম্মদের মোড় এলাকার দিকে নেওয়া হচ্ছিল। পরে খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মেহেদী হাসান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ফিজানুর রহমান এবং উলিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
অটোরিকশা চালক হোসেন আলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রশাসন সাদুল্যা নিরাশির পাতার বটতলা এলাকায় অবস্থিত ‘মেসার্স সাহেব আলী ট্রেডার্স’ নামের একটি গোডাউনে অভিযান চালায়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ চাল পাওয়া যায়। পরে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি আনিছুর রহমানের তথ্যের ভিত্তিতে ২৩ বস্তা ভিজিএফ চাল জব্দ করা হয় বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বকুল মিয়া, মিলন মিয়া, চাঁদ মিয়া ও ফজলুর রহমান সাজু গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল থেকে নিয়মিতভাবে সুবিধা নিয়ে আসছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে যুবদল নেতা বকুল মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে তবকপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নাদিম বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটি এম আরিফ বলেন, “ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে স্বচ্ছ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জোরালো হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :