Site icon হামার কুড়িগ্রাম

উলিপুরে প্রসূতির মৃত্যুকে ঘিরে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ, তদন্তের দাবি স্বজনদের

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:


কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসা অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

নিহত নূরানী বেগম (৩৫) উপজেলার বজরা ইউনিয়নের খামারদামারহাট এলাকার বাসিন্দা মশিউর রহমানের স্ত্রী। তিনি এক সন্তানের জননী ছিলেন।

স্বজনদের অভিযোগ, প্রসব বেদনা শুরু হলে নূরানী বেগমকে উলিপুরের “উলিপুর আধুনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতাল”-এ ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সিজারিয়ান অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের অসাবধানতায় তার জরায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয় বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের।

পরিবারের দাবি, রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়লেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করে। পরে গভীর রাতে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের ভাতিজা নুর আলম জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর গাইনি চিকিৎসক প্রথমে রোগীর উচ্চ রক্তচাপের কারণে তাৎক্ষণিক সিজার সম্ভব নয় বলে জানিয়েছিলেন। তবে পরে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে অস্ত্রোপচার করা হয়। অপারেশনের পর থেকেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে দ্রুত তাকে রংপুরে পাঠানো হয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন,
“আমরা এই মৃত্যুর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. আতা এলাহী সোহাগ ও ডা. নজরুল ইসলামকে দায়ী করছি। তাদের অবহেলা ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই আমার চাচির মৃত্যু হয়েছে।”

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. নজরুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে অপারেশনকারী চিকিৎসক ডা. আতা এলাহী সোহাগ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“রাত সাড়ে ৯টার দিকে রোগীর অপারেশন করা হয়। রোগীর জরায়ু আগে থেকেই ফেটে গিয়েছিল এবং নিচের অংশ ফুলে ছিল। এ কারণে অস্ত্রোপচারের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এছাড়া রোগীর স্বজনরা সময়মতো প্রয়োজনীয় রক্ত সরবরাহ করতে পারেননি। পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়লে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি হয়নি।”

এদিকে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন,
“বেসরকারি ক্লিনিকে প্রসূতি মৃত্যুর বিষয়টি আমরা জেনেছি। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে চিকিৎসা অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ঘটনার পর নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Exit mobile version