Site icon হামার কুড়িগ্রাম

ঈদকে সামনে রেখে ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: লক্ষাধিক টাকার ভারতীয় প্রসাধনী ও বাসমতি চাল জব্দ

মোঃ জাহিদ হাসান | হামার কুড়িগ্রাম

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠা চোরাচালান সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে পরিচালিত এক ঝটিকা অভিযানে লক্ষাধিক টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় প্রসাধনী সামগ্রী ও বাসমতি চাল জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শনিবার (১৬ মে) ভূরুঙ্গামারী সদর উপজেলার মহিলা ডিগ্রি কলেজের পেছনে একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য উদ্ধার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোঃ মুনতাসির মামুন মুন। তার নেতৃত্বে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযানটি পরিচালনা করে।

পুলিশ জানায়, অভিযানকালে প্রায় ৩৫ ধরনের ভারতীয় নামী-দামী প্রসাধনী সামগ্রী এবং আনুমানিক ৩০০ কেজি অবৈধ ভারতীয় বাসমতি চাল জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পণ্যের বাজারমূল্য লক্ষাধিক টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূরুঙ্গামারী মহিলা ডিগ্রি কলেজের পেছনে মৃত লোকমান হোসেনের ছেলে আজাদ আলী মন্ডল ও তার স্ত্রী চায়না বেগমের ভাড়া বাসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্র অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। চক্রটি কুড়িগ্রাম সদরকে কেন্দ্র করে তাদের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করলেও সীমান্তবর্তী ভোটহাট, মাদারগঞ্জ ও নারায়ণপুর এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় পণ্য দেশে এনে ওই বাসায় মজুদ করত। পরে সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হতো।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোঃ মুনতাসির মামুন মুন বলেন,
“আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক সিন্ডিকেটগুলো নতুন করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এসব অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমনে ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের অধীন প্রতিটি থানায় নিয়মিত ও ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও জানান, “বাড়ির মালিকের কাছ থেকে চক্রের মূলহোতা শান্ত মিয়াসহ সংশ্লিষ্টদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪ অনুযায়ী নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

এদিকে, ঈদকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় পুলিশের এমন কঠোর ও সময়োপযোগী অভিযানে সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Exit mobile version